theclickmagazine

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে বেঁচে থাকতে চান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

জালালউদ্দিন সাগর : প্রায় ৩৫২ একর জায়গা জুড়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তৈরী হচ্ছে ইকোনোমিক জোন বা শিল্পাঞ্চল। এই ইকোনোমিক জোনে কর্মস্থান হবে প্রায় দশ লাখ বেকারের। একটি ইকোনোমিক জোন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাবে কোটি মানুষকে-কোটি মানুষের স্বপ্নপুরোনের যিনি কান্ডারি তার নাম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ২০১৯ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ এবং সংসদ সদস্য।

আলাপচারিতায় প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, যতদিন বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে বেঁচে থাকতে চাই। তিনি আরও বলেন, সততা, সাহস আর বুদ্ধিদীপ্ত রাজনীতির শাখোতে ভর করে আজ এতোদূর এসেছি। সেবার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করেছি বলেই আজও লাখো কর্মীর কন্ঠে দীপ্ত স্লোগানে সম্মানের সাথে আমার নামটি উচ্চারিত হয়।

শ্রুতি আছে, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সম-সাময়িক যে কজন রাজনীতিবিদ চট্টগ্রামের জন্য নির্লোভ খেটেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশ,মানুষ আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দৃঢ় থেকে রাজনীতি পিছ পা হন নি। কখনো অনৈতিক কোনো বিলাসীতাকে প্রশ্রয় দেননি তিনি।

মোশাররফ হোসেন ১৯৬৬ সালে ছয় দফার যৌক্তিকতা তুলে ধরে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ছয় দফা দাবি নিয়ে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যখন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল ঠিক তখনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র মোশাররফ হোসেন ছয় দফা দাবির আন্দোলনে নেমেছিলেন রাস্তায়।

লাহোর থেকে দেশে ফিরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এম.এ আজিজের হাত ধরে যুক্ত হন রাজনীতির সাথে। বঙ্গবন্ধুর আনুকূল্য পেয়ে ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মিরসরাই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। যুদ্ধাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। হাতে গোনা যে ক’জন সংসদ সদস্য সে সময় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাঁদের অন্যতম।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে সময়ে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় হুইপের এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাকশাল এবং ৭৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮০ ও ৮৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯২, ১৯৯৬, ২০০৪ এবং ২০১২ সালে সভাপতি এবং একই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম এস.রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুন্নেছা। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দাদা মরহুম এফ. রহমানও একাধারে বিশ বছর তৎকালীন ধুম ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৬১ সালে স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৬ সালে লাহোর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতিতে এসে মুক্তিযুদ্ধসহ বহুবার তিনি জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট চত্বরে তৎকালীন বিএনপি’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদ্বারা তিনি এবং আওয়ামীলীগের অনেক নেতৃবৃন্দ আক্রান্ত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর পায়ের রগ কেটে দেয়।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করার ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ১৯৯২ সালের ৮ মে ফটিকছড়িতে জামায়াত ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন এবং নিজের অসীম সাহসের গুণে অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একজন রাজনৈতিক নেতা, একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন পরোপকারী সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। তিনি তাঁর মরহুম বাবা এস রহমানের নামেও ট্রাস্ট গঠন করে চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলের শিক্ষাখাতে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

যার মধ্যে অন্যতম মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোলকেরহাট পাঞ্জেবুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় (পিএন গালর্স স্কুল)। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পিতা এস রহমান শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন নিজামপুর কলেজ।

ব্যক্তিজীবনে ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে সাবেদুর রহমান, ২য় ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেল এবং তৃতীয় ছেলে আমিনুর রহমান ব্যবসায়ী। একমাত্র মেয়ে সামিনা জেবিন চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন এবং চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •