theclickmagazine

সজ্জন মো.শাহাব উদ্দীন কোরেশী রাঙ্গুনিয়ার কৃতী সন্তান

জালালউদ্দিন সাগর: মো.শাহাব উদ্দীন কোরেশী। বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অ্যাডিশনাল আইজি (অর্থ ও উন্নয়ন) এর দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত স্বচ্ছ ইমেজের এই উর্র্ধ্বতন কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামস্থ রাঙ্গুনিয়ার নজরের টিলা গ্রামে।

শুধু পুলিশ বিভাগেই নয়-মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশীকে অনুসরণ আর অনুকরণ করেন নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ। সততা, নিষ্ঠা আর ক্ষমতার মোহ নিয়ন্ত্রণ করার ঐশ¡রিক শক্তি আছে এই মানুষটির মধ্যে। খুব সাদামাটা ভাবেই স্বীকার করেন তিনি। আলাপচারিতায় বললেন, প্রভুর দেয়া অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যেই মানুষ এবং সৃষ্টিকুল ডুবে থাকে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে না এবং তদানুযায়ী ন্যূনতম করণীয় দায়িত্ব পালন করে না।

মো.শাহাব উদ্দীন কোরেশীর সাথে কথা হয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর নিজ দপ্তরে বসেই। এরি মধ্যে নানান সমস্যা নিয়ে ফোন করেন অনেকেই। পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই আসেন নানাবিধ সমস্যার কথা জানাতে। সবার সমস্যার কথা আগ্রহ নিয়ে শোনেন তিনি। সমাধানের পথও বলে দেন।

এরই মধ্যে একজন দর্শনার্থী এসেছেন যিনি তাঁর খুব কাছের মানুষ। আসা মাত্র দাঁড়িয়ে কুশল বিনিময় করলেন মো.শাহাব উদ্দীন কোরেশী। সহকারীকে বললেন, চা দিতে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দর্শনার্থীরসমস্যা শুনলেন। নানান প্রশ্ন করে জেনে নিলেন সে সমস্যার আদ্যেপান্ত। চা খাওয়া শেষে সে দর্শনার্থীকে মো.শাহাব উদ্দীন কোরেশী খুব বিনীতভাবে বললেন, ক্ষমা করবেন, আমি আপনাকে কোনো সাহায্য করতে পারলাম না।

আকাশ থেকে পড়েছেন এমন ভাব নিয়ে সে দর্শনার্থী মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন পারবেন না ? দর্শনার্থীর উদ্দেশ্যে খুব সহজ উত্তর উর্র্ধ্বতন এই পুলিশ কর্মকর্তার, আপনার দাবিটি অযৌক্তিক এবং অন্যায় কোনো অনুরোধ রক্ষা করা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

সৎ, সজ্জন আর নীতিবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শাহাব উদ্দীন কোরেশীর সুনাম নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়ায়ও বিস্তৃত। সে কারণেই হয়তো অনেকের কাছেই তিনি প্রিয়।
মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশীর জন্ম ১৯ অক্টোবর, ১৯৬১ সালে। জন্ম নিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার অজ পাড়াগাঁয়ে। নজরের টিলাতে। বাবা মরহুম মোহাম্মদ মিয়া কোরেশী। মা মরহুমা মাবিয়া খাতুন গৃহিণী।

তিনি বললেন, আমরা ৮ ভাই এবং এক বোন এর মধ্যে আমি সর্বকনিষ্ঠ। কৃষিজীবী বাবা এবং গৃহিণী মা আমাদের সবাইকে অনেক কষ্ট করে উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অসচ্ছল সংসারের হালটানতে গিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন কিন্তু কখনো অসৎ পথে পা বাড়াতে দেখিনি।

কোরেশী বলেন, বাবা বলতেন, সৎ পথে থেকে না খেয়ে ঘুমানোর মধ্যেও শান্তি পাওয়া। ব্যক্তি কিংবা পেশাগত জীবনে বাবার সে নীতিবাক্যটাকে মেনে চলার চেষ্টা করি।
ব্যক্তিজীবনে মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশী ৫ সন্তানের জনক। বড় মেয়ে সুমাইয়া হোসেন বিবাহিতা। তিনি মাস্টার্স করেছেন। চার ছেলেদের মধ্যে আশিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে সদ্য মাস্টার্স করেছেন। মো. সাজিদুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছেন। মো. আবিদুর রহমান পড়েন নটরডেম কলেজে আর সর্বকনিষ্ঠ মো. আনামুর রহমান পড়েন নবম শ্রেণিতে। স্ত্রী মরহুমা সৈয়দা আকতার।

নজরের টিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখার হাতেখড়ি মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশীর। ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে পড়েছেন রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে বড়ভাই মো. কামাল উদ্দীন কোরেশীর পরিকল্পনায় আরেক ভাই মো. জালাল উদ্দীন কোরেশীর ঢাকাস্থ বাসায় এসে মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ভর্তি হন এবং এই বিদ্যালয় থেকেই ১৯৭৭ সনে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৯ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে পাস করেন এইচএসসি। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে অনার্স এবং ১৯৮৯ সালে একই বিশ¡বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন তিনি।

১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সিস্টেম এ রিসার্চ অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে সায়েন্টেফিক অফিসার হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ।

অষ্টম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৯ সালে ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রামের এই কৃতী সন্তান।

পেশাগত জীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার, এপিবিএন, খাগড়াছড়ি। সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রংপুর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জয়পুরহাট। পুলিশ সুপার, মেহেরপুর। এআইজি (ফিন্যান্স), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা। জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা। ডিআইজি, পিবিআই, ঢাকা। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা। অতিরিক্ত আইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা।

বাংলাদেশ পুলিশের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাঙ্গোলাস্থ ইউএন মিশন, ইস্ট তিমুরে ইউএন মিশন এবং লাইবেরিয়ায় ইউএন মিশনে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।এ ছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে অসংখ্য প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন তিনি।

জনগণের কল্যাণে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তিনি। বিশেষ করে মামলার তদন্ত ব্যয়, থানার অপরিহার্য ব্যয়ের জন্য যেমন কাগজ, কলমসহ অন্যান্য মনোহরি দ্রব্যাদি এবং ফার্নিচার ইত্যাদির জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •